জমিয়তে উলামায়ে বাংলা
মুজাদ্দিদে জামান শাহ সুফি পীর আবু বকর সিদ্দিকী (রহঃ) এর নিজ হাতে প্রতিষ্ঠিত একটি অরাজনৈতিক, ধর্মীয় ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।
প্রতিষ্ঠাতা : পীর আবুবকর সিদ্দিকী (রহঃ)
ফুরফুরা দরবার শরীফ
স্থাপিত : ১৯২১
সংগঠনের কথা
‘তাহাফফুজে দ্বীন’ ও ‘খেদমতে খালক’ – কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ১৯২১ সালে ফুরফুরার পীর হযরত শাহ সূফী মাওলানা আবু বকর সিদ্দিকী (রহঃ) প্রতিষ্ঠা করেন ‘জমিয়তে উলামায়ে বাংলা’ সংগঠন। এই সংগঠন সর্বার্থেই মানুষকে নিয়ে, মানুষের জন্য, মানুষের সাহায্যে।
উনবিংশ শতাব্দীর পূর্ব ভারতের মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে যাঁরা ইসলামের অকৃত্রিম রূপকে হৃদয় ধারণ করে নিজেদের জীবন গড়েছেন এবং সেইরূপ সমাজে প্রতিষ্ঠিত করে সমাজ থেকে কুসংস্কারের অন্ধকার দূর করার মাধ্যমে অর্থহীন আচার অনুষ্ঠানের বোঝা লাঘব করে সমাজে চলার গতিকে মসৃণ করে সমাজের ন্যায়,নীতি, মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার কাছে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন তাঁদের মধ্যে অগ্রগণ্য ব্যক্তিত্ব ফুরফুরার পীর হযরত মাওলানা আবু বকর সিদ্দিকী (রহঃ) যিনি জমিয়তে উলামায়ে বাংলা সংগঠনের মূল প্রেরণা দাতা ও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।
এক ঝলকে 'জমিয়তে উলামায়ে বাংলা' র নিয়মিত কর্মসূচি
ধর্মীয় ক্ষেত্রে
- 'তাহাফফুজে দ্বীন' ও 'খেদমতে খালক'
- ইসলামের জন্য অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ
- মিল্লাতের অধিকার আদায় ও বঞ্চনার প্রতিবাদে প্রশাসনের কাছে বিভিন্ন পদক্ষেপ
- ইসলামের বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে অকুতোভয় প্রতিবাদ
শিক্ষা ক্ষেত্রে
- মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়নে সদা সক্রিয়
- মুসলিম জাতির শিক্ষা ক্ষেত্রে অগ্রগতিতে সহায়তা
- দুঃস্থ শিক্ষার্থীদের বই খাতা কলম প্রদান
- কৃতি শিক্ষার্থী ও গুণীজন সংবর্ধনার মাধ্যমে উৎসাহ প্রদান
স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে
- স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবির
- রক্তদান শিবির
- চক্ষু পরীক্ষা শিবির
- দুঃস্থ রোগীদের আর্থিক সহযোগিতা
বিপর্যয় মোকাবিলা ও অন্যান্য
- বন্যা, ঝড়ে দুর্গতদের খাদ্য,বস্ত্র,অর্থ প্রভৃতি সহযোগিতা
- প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ত্রাণ শিবির স্থাপন
- প্রতিবন্ধীদের সাহায্য
- নতুন বস্ত্র, শীতবস্ত্র প্রদান
পীর ইমরান উদ্দিন সিদ্দিকী
– সভাপতির কলম –
বিগত শতকের শ্রেষ্ঠ যুগপুরুষ ও যুগঃস্কারক শাহ সুফী পীর আবুবকর সিদ্দীকী (রঃ)-এর কল্যাণময় হাতে ১৯২১ সালে ‘জমিয়তে উলামায়ে বাংলা’-র প্রতিষ্ঠা ও পথচলার শুভ সূচনা হয়। আধ্যাত্মিক চেতনার উন্নতি ও জাতির সেবায় নিয়োজিত হবার নিঃস্বার্থ লক্ষ্যের যে বীজ প্রতিষ্ঠাতা পীর আবু বকর সিদ্দিকী (রহঃ)রোপন করেছিলেন তা আজ মহিরুহ হয়ে ছায়া বিস্তার করে চলছে। এই সংগঠনের যাত্রাপথের প্রতিটি সোপানে প্রশংসা যোগ্য অবদান রেখে গেছেন অগণিত স্বনাম ধন্য, কর্মঠ, নিবেদিতপ্রাণ, প্রচার বিমুখ ব্যক্তিবর্গ তথা কর্মীবৃন্দ। বিংশ শতকের প্রভাত লগ্নে এই সংগঠনের মশাল আবু বকর সিদ্দিকী ( রহঃ) যে উদ্দেশ্যে প্রজ্বলিত করেছিলেন তার মশাল আজও নির্বাপিত হয়নি। অজস্র সমালােচনা ও প্রতিকূলাতাকে উপেক্ষা করে ইখলাসার সাথে এই সংগঠন যে ভাবে কাজ করে চলেছে মহান আল্লাহ আমাদেরকেও একই , উদ্দেশ্য লক্ষ্য, চিন্তাধারা নিয়ে তার কর্মযজ্ঞ কে অব্যাহত রাখার তৌফিক দান করুন। পার্থিব উদ্দেশ্য নয় বরং স্রষ্টার সার্বিক সন্তুষ্টি অর্জনই আমাদের এক ও অদ্বিতীয় উদ্দেশ্য হোক। আ-মীন।
সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন
– সম্পাদকীয় কলম –
প্রচার সর্বস্ব পৃথিবীতে, উদ্দেশ্য অবিচল থেকে আমাদের সংগঠনের মূল নীতি কথা বা Motto হল হল ‘তাহাফফুজে দ্বীন’ ও ‘খেদমতে খালক’। সর্বশক্তিমান এর আনুগত্যের পাশাপাশি মানবের পরিপূর্ণতার অন্যতম মানদন্ড হল ‘সৃষ্টির সেবা’। একদিকে মানুষের আত্মিক ও আধ্যাত্মিক চেতনার জাগরণে উৎসাহদান, অপরদিকে সমাজের পশ্চাদপদ, দুঃস্থ অসহায়, বিপন্ন অত্যাচারীতের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়ানো – এই দুই মহৎ উদ্দেশ্যে সংগঠনের যে পথ চলা শুরু হয়েছিল তা অনাবিল ছন্দে আগামিতেও এগিয়ে চলবে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস। আমাদের প্রিয় সংগঠন ‘জমিয়েতে উলামায়ে বাংলা’ 2021 সালে শতবর্ষের মাইলস্টোন স্পর্শ করল। এর জন্য আমরা আল্লাহ তাআলার দরবারে আমরা আমাদের অন্তরের কৃতজ্ঞতা পেশ করছি। প্রার্থনা করি,তিনি যেন আমাদের এই প্রচেষ্টাকে কবুল করে সংগঠনকে সুদীর্ঘ জীবন দান করেন।
' জমিয়তে উলামায়ে বাংলা ' এর বিভিন্ন কার্যকলাপ
নুপুর শর্মার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ
নুপুর শর্মার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, সভাপতি পির ইমরান উদ্দিন সিদ্দিকী
বন্যা দুর্গত মানুষের পাশে
বন্যা দুর্গত মানুষের পাশে জমিয়তে উলামায়ে বাংলা
শীত বস্ত্র বিতরণ
শীত বস্ত্র বিতরণে সহ-সভাপতি পীরজাদা মিনহাজ উদ্দিন সিদ্দিকী
সম্প্রীতি সভা
জমিয়েতে উলামায়ে বাংলার সম্প্রীতি সভা
প্রতিবাদ সভা
নবী করীম সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অবমাননার বিরুদ্ধে জমিয়ে ওলামায়ে বাংলার প্রতিবাদ সভা
বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে জমিয়তে উলামায়ে বাংলা
গত ২৫ মে ২০২২, আমফান ঝড়ের তাণ্ডবে সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকায় অসংখ্য মানুষ কর্মহীন, গৃহহীন, সম্বলহীন হয়ে পড়েছে। এমন করুন পরিস্থিতিতে অসহায় মানুষদের সাহাযার্থে জমিয়তে উলামায়ে বাংলা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জাতি, ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে প্রায়ই কুড়ি হাজার পরিবারকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলো।

২০২০ সালে জানুয়ারি মাসে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মানুষ এক অজানা জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বৈজ্ঞানিকরা এই রোগের নামকরণ করেছিলেন Covid – 19. এমতাবস্থায় ভারত সরকার লকডাউন জারি করলে মানুষ গৃহবন্দী হয়ে পড়েছিল। এমনই ভয়াবহ পরিস্থিতি জমিয়ত উলামায়ে বাংলা সমস্ত কোভিড নির্দেশকে মান্যতা দিয়ে হাজার হাজার মানুষের পাশে দাড়িয়েছিল।
ইয়াস ঝড়ের তান্ডবে ২৬ শে মে ২০২১, রাত্রিতে প্রচন্ড গতিতে ঝড় এবং নদীর উচ্চ ঢেউ প্রবল গর্জনে নদী র কিনারায় আছড়ে পড়েছিল। নদীর ঢেউয়ের তাণ্ডবে সুন্দরবনের বহু এলাকা প্লাবিত হয়ে বন্যার আকার ধারণ করেছিল। ফলস্বরূপ মানুষ গৃহীন কর্মহীন হয়ে পড়েছিল। ওই সমস্ত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সাহায্যার্থে জমিয়তে উলামায়ে বাংলা এক হাজার পরিবারকে বিভিন্ন দিক থেকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।
পীর আবু বকর সিদ্দিকী(রহঃ) এর ওসিয়ত নামা
আমাদের খলিফা মুরিদের মধ্যে যদি কেহ কোরয়ান, হাদিস ও ফিকাহ সমূহের বিপরিত অর্থাৎ শরিয়তের কোনো বিপরিত মত প্রকাশ করে, তবে তাহা কেহ মানিবেন না। যদি কেহ আমার খলিফা ও মুরিদ দাবি করিয়া আমার অসিয়তের বিপরীত চলে, তবে কেহ তাহাকে আমার মুরিদ বা খলিফা মনে করবেন না ও তাহার নিকট মুরিদ হইবেন না ।