উদ্দেশ্য
ধর্মীয় ভাবাবেগের মাধ্যমে আবু বকর সিদ্দিকী (রহঃ) মতাদর্শকে সামনে রেখে পিছিয়ে পড়া মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসন, দুস্থ অসহায় মানুষের জন্য সহায়তা প্রদান।
লক্ষ্য
আগামী দিনের জমিয়তের লক্ষ্য দেশ ও জাতিকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির বন্ধন কে আরো দৃঢ করা।
জমিয়তে উলামায়ে বাংলা
পীর আবুবকর সিদ্দিকী (রহঃ)শুধু ধর্ম প্রচার সমাজ, সংস্কার, আধ্যাত্মিকতার শিক্ষাদান করে তাঁর দায়িত্ব শেষ করেননি। জনসাধারণের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক অবস্থা, বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠীর মধ্যে সদ্ভাব সম্প্রীতি রক্ষা,অসহায় দুর্গত মানুষদের পাশে দাঁড়ানো প্রভৃত্তি সামাজিক দায়িত্ব তিনি গভীর নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছেন। বিপুল সংখ্যক পিছিয়ে পড়া মানুষের ধর্মীয় আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের দায়বদ্ধতা নিয়ে যিনি পথচলা শুরু করেন তাঁর পক্ষে রাজনৈতিক বিষয়ে একেবারে নির্লিপ্ত থাকা কি সম্ভব? দেশের নাগরিকদের জীবন যাত্রার মান উন্নয়নের, ধর্ম পালনের অধিকারের প্রশ্নে, মানুষের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার প্রশ্নে তাঁর পক্ষে নীরব থাকা সম্ভব হয়নি। তবে তিনি প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে কখনো যুক্ত হয়নি। অসহযোগ আন্দোলন,খেলাফত আন্দোলন, বিদেশি পণ্য বয়কট আন্দোলন, বেঙ্গল প্যাক্ট বিষয়ে ধর্মীয় আইনের উপর ব্রিটিশ গভারমেন্টের হস্তক্ষেপ প্রভৃতি ও মূল রাজনৈতিক বিষয়ে তিনি নির্ভীকভাবে নিজ মতামত ব্যক্ত করেছেন এবং প্রয়োজনে কখনো তার সমর্থন জ্ঞাপন করেছেন কখনোবা বিরোধিতা করেছেন।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ১৯১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত বঙ্গীয় আলেমদের দ্বিতীয় সংগঠন ‘আঞ্জুমানে উলামায়ে বাংলা’ ১৯২১ সালে লক্ষ্যে অবিচল থেকে নব উদ্যমে নব কলরবে বর্তমান প্রতিষ্ঠানের রূপ পায়। পরবর্তীতে এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি পীর আবু বকর সিদ্দিকী (রহঃ)। সম্পাদকের দায়িত্বে আসেন মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী। ইতিমধ্যে ১৯১৯ সালে গঠিত আলেমদের সংগঠন ‘জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ’ সর্বভারতীয় সংগঠন হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছে এবং কাজকর্ম শুরু করেছে। বৃহত্তর পটভূমিকায় কাজ করা যাবে এই বিবেচনায় পীর সাহেব ‘জমিয়তে উলামায়ে বাংলা’ কে জমিওতে উলামায়ে হিন্দের সঙ্গে যুক্ত করে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের কর্ম পরিধির আরো বিস্তার ঘটালেন।
১৯৩৯ সালে জমিয়তে উলামায়ে বাংলার প্রাণপুরুষ তথা পূর্ব ভারতের বাংলার মুসলমানের অভিভাবক শাহ আবু বকর সিদ্দিকী (রহঃ) এর অন্তর্ধনের পর সংগঠনের মধ্যে বিরাট শূন্যতা সৃষ্টি হয় এবং কার্যধারা স্বাভাবিকভাবে কিছুটা স্থিমিত হয়ে পড়ে। এর ৮ বৎসর পরে ১৯৪৭ হালে দ্বিখন্ডিত হয়ে দেশ যখন স্বাধীনতার স্বাদ পেল তখন মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলা দ্বিখন্ডিত হল। জমিয়তের প্রাণকেন্দ্র ফুরফুরা পশ্চিমবঙ্গের অংশ হওয়ায় এবং পূর্ববঙ্গ স্বাধীন দেশ ‘পূর্ব পাকিস্তান’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করায় বাংলার দুই খন্ডের মানুষের মধ্যে অবাধ মেলামেশার সুযোগ সীমিত হয়ে গেল। ফলে জমিয়তের কর্ম পরিধিও অনেকাংশে সংকুচিত হয়ে পড়ল। কিন্তু জমিয়তের মূল লক্ষ্য বা উদ্দেশ্যের কোন পরিবর্তন ঘটেনি। ফুরফুরার কৃতি সন্তান তথা তৎকালীন অখন্ড বঙ্গের মুসলিম সমাজের কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্বের সুযোগ্য ‘উত্তরসুরী পুত্র’, ও অন্যান্য বংশধরপৌত্র এবং অগণিত ভক্তকুলের অপৃত্রিম প্রয়াসে তাঁর আবদ্ধ কাজকে অবিরাম প্রচেষ্টায় এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার গতি অব্যাহত আছে।
জমিয়তে উলামায়ে বাংলার বর্তমান পরিচালকমন্ডলী
সভাপতি
পীর ইমরান উদ্দিন সিদ্দিকী
সম্পাদক
সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন
সহ-সভাপতি
মিনহাজ উদ্দিন সিদ্দিকী
সহ-সভাপতি
মাওলানা সৈয়দ বাহাউদ্দিন
যুগ্ম সম্পাদক
আজমাতুল্লাহ সিদ্দিকী
সহ-সভাপতি
আলহাজ্ব বদরুদ্দিন
সহ-সভাপতি
মাওলানা তাজাম্মুল হোসেন
যুগ্ম সম্পাদক
মোঃ শফিকুল ইসলাম
মুখ্য সংগঠক
ডাক্তার কবির আহমেদ
কোষাধ্যক্ষ
হাসান আলী
কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদের কিছু কথা




সংগঠনের সাথে যোগ দিন
আমাদের এই সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য হলো মানব প্রেম, দেশ প্রেম ও ধর্ম প্রেম। সুতরাং আসুন আমরা প্রত্যেকেই কাঁধে কাঁধ রেখে সৎ চিন্তা নিয়ে এই সংগঠনের সাথে যোগদান করে মানব, দেশ ও ধর্ম সেবায় লিপ্ত হয়। আশা রাখি তোমাদের অংশগ্রহনের মাধ্যমে আমাদের সংঘটন আরো শক্তিশালী হয়ে উঠবে।